আইডিয়া বুঝাতে ছবিতে বাল্ব ব্যবহার করা হয় কেন?

জানা অজানা May 31, 20161,376
আইডিয়া বুঝাতে ছবিতে বাল্ব ব্যবহার করা হয় কেন?

ধরুন আপনার মাথায় একটা আইডিয়া এসেছে। তা ছবিতে বুঝানোর জন্য বাল্ব ব্যাবহার করা হলো। আপনি অবশ্যই বলতে পারেন বাল্ব কেনো অন্য কিছুওতো ব্যাবহার করা যেতো। অথবা আপনার কাছে মনে হতে পারে পৃথীবিটা গোলকধাধাময়। সব কিছুই কেমন যেনো তালগোল পাকানো। কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষ্য আলাদা, সব কিছুর পিছনেই একটা না একটা কারন আছেই। যেমন কারন আছে আইডিয়া বুঝাতে ছবিতে বাল্ব ব্যাবহার করার।


আইডিয়া এসেছে বোঝাতে একটি বাল্বই যথেষ্ট। মাথার ঠিক কাছে জ্বলন্ত বাল্ব রাখা মানেই মাথায় প্রয়োজনীয় বুদ্ধিটা এসে গিয়েছে। কিন্তু কেন আচমকা এতকিছু থাকতে বাল্বকেই বেছে নেওয়া হলো? যুক্তি প্রধানত দুটি। প্রথমত, স্রেফ একটি সুইচ চাপলেই অন্ধকার কেটে চট করে যেমন আলো চলে আসে, সব অন্ধকার দূর হয়ে যায়, তেমনই চট করে মাথায় বুদ্ধি চলে এলে যাবতীয় ধোঁয়াশা কেটে যায়। মনে আছে ঠিক যেভাবে সোনার কেল্লা ছবিতে লালমোহনবাবুর কেনা হলদে পাথরের বাটি দেখে ফেলুদার মাথায় চট করে আইডিয়া এসে গিয়েছিল যে, মুকুলকে নিয়ে দুর্ধর্ষ দুশমনরা কোথায় গিয়েছে। ঠিক সেভাবেই কোনো বুদ্ধি আসা এবং বাল্বের জ্বলে ওঠার সামঞ্জস্যপূর্ণ।


দ্বিতীয় কারণটি অবশ্য একেবারেই বিজ্ঞানপ্রসূত। বলা হয়, জেগে থাকার সময়ে মানুষের মস্তিষ্ক যে পরিমাণ তড়িৎ উৎপাদন করতে পারে, তাতে একটি ছোট বাল্ব জ্বালানো যেতে পারে অনায়াসে। মানুষের মস্তিষ্কে থাকে কোটি কোটি নিউরন। আমরা যা-ই করি, অর্থাৎ, হাসি, ঘুম, কান্না, প্রেম সবই নিউরনের জন্য। নিউরনগুলির মধ্যে ক্রমাগত তীব্র বেগে ছুটে চলেছে কেমিক্যাল এবং ইলেট্রিক সিগন্যাল। এই ছোটাছুটি বন্ধ হয় না। জেগে থাকা অবস্থায় এই ছোটাছুটি হয় তীব্রতর। এই প্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ ইলেকট্রিক এনার্জি উৎপাদিত হয়, তা একটি ছোট বাল্ব জ্বালানোর পক্ষে যথেষ্ট।