যিনি রাইফেল তৈরির স্রষ্টা!

জানা অজানা May 30, 2016 1,044
যিনি রাইফেল তৈরির স্রষ্টা!

বিশ্বখ্যাত রাইফেল স্রষ্টা মিখাইল কালাশনিকভ। তিনি একে-৪৭ রাইফেলের মাধ্যমে বিশ্বের অস্ত্রের বাজারে প্রবেশ করেন। এই রাইফেল তাকে এনে দিয়েছে সর্বাধিক খ্যাতি।

মিখাইল কালাশনিকভের মতো বিখ্যাত বিশ্বে আর কোনো অস্ত্রের স্রষ্টা হতে পারেননি।


আলতাই অঞ্চলের কুরিয়া গ্রামে ১০ নভেম্বর ১৯১৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন মিখাইল কালাশনিকভ। তার শৈশব কেটেছে কৃষক পরিবারে। স্কুল পাস করার দুই বছর পরে তিনি সেনা বাহিনীতে যোগ দেয়ার ডাক পান এবং সেখানেই প্রথম ট্যাঙ্ক চালক মিখাইল কালাশনিকভ নিজের যন্ত্র সৃষ্টি করার ক্ষমতা দেখাতে পেরেছিলেন।


তিনি প্রথম ট্যাঙ্ক থেকে গোলা নিক্ষেপের হিসেবের যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এই নতুন সৃষ্টি তখন কিয়েভ সেনাদলের প্রধান গিওর্গি জুকভের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।


তিনি নবীন স্রষ্টার সঙ্গে দেখা করেন ও তাকে একটি নামাঙ্কিত ঘড়ি উপহার দেন। যখন মহান পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তখন মিখাইল কালাশনিকভ চলে যান যুদ্ধক্ষেত্রে। কিন্তু ব্রিয়ানস্কের কাছে ১৯৪১-এর অক্টোবর মাসে গুরুতরভাবে আহত হন।


হাসপাতালে থাকার সময় তিনি ভাবতেন যে, কি করে সহজে ব্যবহারযোগ্য পিস্তল মেশিনগান তৈরি করা যায়। যুদ্ধ শুরুর সময় এই রকম কিছু একটার খুব দরকার ছিল।


হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে মিখাইল কালাশনিকভ তার নতুন অস্ত্রের জন্য প্রথমে অনেক ছবি এঁকে ছিলেন। কিন্তু প্রায় সাত বছর কঠিন পরিশ্রম করার পর প্রথম একে-৪৭ তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল। তারপর ১৯৪৭ সালে এই রাইফেলের গঠন পরিকল্পনা শেষ হয় এবং ১৯৪৯ সালে তা দেশের সামরিক বাহিনীর হাতে আসে।


সেন্ট পিটার্সবার্গের সামরিক জাদুঘরের অস্ত্র সংরক্ষণ ফান্ডের সংরক্ষক পিওতর গোরেগ্ল্যাদ বলেন, বিগত ৬০ বছরে এই অস্ত্রের অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে, কিন্তু মূল ধারণা একই আছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো অস্ত্রের দীর্ঘস্থায়ীত্ব এবং সৈনিকের জন্য সুবিধা। মিখাইল কালাশনিকভ তার কাজের আগে এই দুটি বিষয়কেই মুখ্য বলে ধরেছিলেন।


যাতে ব্যবহারকারীর কাছে এর কৌশল সবচেয়ে সহজ হয় এবং তৈরি করার সময়ও তা সহজে করা যায়। এই দুটি বিষয়ে মিলে তৈরি হয়েছে এমন রাইফেল যা বিশ্বের সব অস্ত্র প্রস্তুতকারক স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে যে, আরো অন্তত ২০ বছর এর সমকক্ষ কোনো অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হবে না।


অবশ্য অনেকেই ভাবেন যে এর আয়ু আরো ৫০ বছর, কারণ যে ধারণা থেকে এই রাইফেল মিখাইল কালাশনিকভ তৈরি করেছেন তা এখনো প্রয়োজন।’


মিখাইল কালাশনিকভের রাইফেলের আধুনিক রূপ একেএম অবশ্যই বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে ন্যায্য কারণে। খুবই ভরসার যোগ্য, সোজা, লক্ষ্যে নিখুঁত এবং খুবই শক্তিশালী।


যথেষ্ট কম জায়গা নেয় এবং ওজনও কম। এই রাইফেল পানি, বরফ, বালি, ধুলো, কাদা কিছুকেই ভয় পায় না।


সৈনিক সারা দিন জলার বুক পানিতে ডুবে, কাদা মেখে চলতে পারে, কিন্তু যখনই তার দরকার হয় তখনই এই রাইফেল তার শত্রুর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে। শুধুই তো আর এই রাইফেল দুনিয়ার বহু দেশে তৈরি হচ্ছে না।


পিওতর গোরেগ্ল্যাদ বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমনকি এই রাইফেলের ফ্যান ক্লাবও আছে। এটা সারা পৃথিবীতে এখন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে এবং খুবই বিখ্যাত হয়েছে।


তার মধ্যে এমন কোনো মহাদেশই নেই যেখানে মিখাইল কালাশনিকভের রাইফেল ব্যবহার হয় না। আফ্রিকার কম করে হলেও তিনটি দেশের জাতীয় পতাকায় মিখাইল কালাশনিকভের এই রাইফেল প্রতীক হয়েছে।


মোজাম্বিকের জাতীয় প্রতীকে এই রাইফেল খুবই চমৎকারভাবে রয়েছে। এটাকেও রাইফেলের সৃষ্টি কর্তার প্রতি এক সম্মান প্রদর্শন ও স্মৃতি ফলক বলে ভাবা যায়।


মিখাইল কালাশনিকভের সংগ্রহে এই রাইফেলের আরো তিনটি বিভিন্ন গঠন আছে, এ ছাড়া তিনি শিকারের জন্য অস্ত্র বানিয়েছেন।