বজ্রপাত থেকে বাঁচার দোয়া

ইসলামিক শিক্ষা May 20, 2016 2,000
বজ্রপাত থেকে বাঁচার দোয়া

সম্প্রতি দেশজুড়ে নিয়মিত বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক দিনের বজ্রপাতে বহু মানুষ মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেকে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর বজ্রপাতে নিহত হওয়ার সংখ্যা অনেক বেশি।


আল্লাহ তায়ালা নানাবিধ বিপদ-আপদ দিয়ে বান্দাকে পরীক্ষা করে থাকেন। এসব বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকার কলা-কৌশল, দোয়া-জিকিরও কুরআন-হাদিসে বলে দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেঘের গর্জন শুনলে বা বিদ্যুতের চমক দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই এই দোয়া করতেন- ‘আল্লাহুম্মা লা- তাক্বতুলনা- বিগযাবিকা ওয়া লা-তুলহিকনা- বি আ’জা-বিকা, ওয়া আ’-ফিনা- ক্বাব্লা জা-লিকা।’


অর্থ : হে আমাদের প্রভু! তোমার ক্রোধের বশবর্তী হয়ে আমাদের মেরে ফেলো না আর তোমার আজাব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করো না। বরং এর আগেই আমাদেরকে ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে নিও। [তিরমিজি]


অন্য হাদিসে আছে হজরত আব্দুল্লাহ ইবন জুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মেঘের গর্জন শুনতেন তখন কথা বলা বন্ধ করে দিতেন এবং কুরআন মাজিদের এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন‘সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর রা’দু বিহামদিহি ওয়াল মালাইকাতু মিন খিফাতিহি’। অর্থ : পাক-পবিত্র সেই মহান সত্তাÑ তাঁর প্রশংসা পাঠ করে বজ্র এবং সব ফেরেশতা, সভয়ে। [মুয়াত্তা]


ঝড় তুফানের সময় গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি দোয়া হলো ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্আলুকা খায়রাহা ওয়া খায়রা মা ফিহা- ওয়া খায়রা মা উরসিলাত বিহি; ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাতবিহি।’ অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর মঙ্গল, এর মধ্যকার মঙ্গল ও যা নিয়ে তা প্রেরিত হয়েছে, তার মঙ্গলসমূহ প্রার্থনা করছি এবং আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এর অমঙ্গল হতে, এর মধ্যকার অমঙ্গল হতে এবং যা নিয়ে তা প্রেরিত হয়েছে, তার অমঙ্গলসমূহ হতে।


হজরত ওকবা বিন আমের রা. বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সা.-এর সাথে এক সফরে জুহফা ও আবওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে ঝড়-বৃষ্টি ও ঘনঘটাপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পড়ি। এ সময় রাসুলুল্লাহ সা. সুরা ফালাক ও নাস পড়তে থাকেন। তিনি আমাকে বললেন, হে ওকবা, এ দুটি সুরার মাধ্যমে আল্লাহর পানাহ চাও। কেননা কোন আশ্রয়প্রার্থী আশ্রয় চাইতে পারে না এ দুটির তুলনায়’।