ক্রিকেটের এই ১০ বিশ্ব রেকর্ড ভাঙ্গা প্রায় অসম্ভব!

ক্রিকেট দুনিয়া 05 Mar 2021 at 10:38am 579
Googleplus Pint
ক্রিকেটের এই ১০ বিশ্ব রেকর্ড ভাঙ্গা প্রায় অসম্ভব!

ক্রিকেটের জন্মলগ্ন থেকে রেকর্ড তৈরি হয়, পরবর্তীতে তা কেউ না কেউ সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড তৈরী করেন। তবে এমন কিছু রেকর্ড রয়ে গিয়েছে যা এখনও পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেননি। এমনকি অনেকে মেনেও নিয়েছেন সেই রেকর্ড ভাঙা একপ্রকার অসম্ভব। ক্রিকেটের দুনিয়ায় এরকম ১০ টি রেকর্ডের কথা জেনে নিন।


১) ডন ব্রাডম্যানের ৯৯.৯৪ টেস্ট ব্যাটিং এভারেজ : ডন ব্রাডম্যান, জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়। ক্রিকেটের দুনিয়ায় তাকে সবাই চেনেন ‘দ্য ডন’ হিসেবে। ক্রিকেট জগতের ডন তাঁর গোটা কেরিয়ারে তিনি ৮০ টি টেস্ট ইনিংস খেলেছেন। এই ৮০ টি টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর রানের গড় ৯৯.৯৪। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে তাঁর গড় রান ৯৫.১৪। এখনও পর্যন্ত এই রেকর্ড কোনো ক্রিকেটার ভাঙতে পারেননি। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ডন ব্রাডম্যান ক্রিকেটের দুনিয়ায় বিস্ময়। এখনও পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটার ডন ব্রাডম্যানের রেকর্ড ভাঙতে পারেননি এবং ভবিষ্যতেও ‘দ্য ডন’-এর রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।


২) মুরলীর ১,৩৪৭ আন্তর্জাতিক উইকেট : মুত্তিয়া মুরলীধরন জন্ম গ্রহণ করেছেন শ্রীলঙ্কার কান্ডিতে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের সদস্য। তাঁর বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছিল গোটা বিশ্ব। আচ্ছা আচ্ছা ক্রিকেটার তাঁর সামনে হার মানতে বাধ্য হয়েছেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে কেরিয়ার শুরু করে খুব কম সময়ের মধ্যে সাফল্য অর্জন করেছিলেন। টেস্ট ম্যাচে ৮০০ টি উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন। ওয়ানডে ম্যাচে ৫৩৪ টি উইকেট পেয়েছেন। টি টোয়েন্টিতে ১৩ টি উইকেট নিয়ে রেকর্ড তৈরী করেছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে মুরলিধরন যে রেকর্ড তৈরী করেছেন তা ভাঙার কোনো সম্ভাবনা নেই।


৩) জ্যাক হবসের ৬১,৭৬০ প্রথম-শ্রেণির রান : জ্যাক হবস জন্মগ্রহন করেন কেম্ব্রিজে। ১৯০৮ সালে ইংল্যন্ডের জাতীয় দলে খেলা শুরু। ১৯০৮ থেকে ১৯৩০ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে মাত্র ৬১টি ম্যাচ খেলেন তিনি। কিন্তু প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ৮৩৪ টি, রান তুলেছেন ৬১,৭৬০। যে কারণে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা তাঁকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন।


৪) জিম লাকারের ১৯/৯০ টেস্ট ম্যাচ বোলিং ফিগার : জিম ল্যাকারের ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জগতে অভিষেক হয়। ১৯৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওল ট্রফোডে অবিস্মরণীয় ইতিহাস তৈরী করেন। অস্ট্রেলিয়ার ২০ টি উইকেটের মধ্যে ১৯টি উইকেট নেন। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৯০ রান করতে পেরেছিল। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে এখনও পর্যন্ত যতগুলি ম্যাচ হয়েছে তার মধ্যে এই ম্যাচটি মিরাকেল। এই ম্যাচের রেকর্ড কোনোদিন ভাঙা যাবেনা বলে বিশ্বাস ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের।


৫) উইলফ্রেড রোডসের ৪২০৪ প্রথম শ্রেণীর উইকেট : উইলফ্রেড রোডস, জন্ম গ্রহণ করেছিলেন যুক্তরাজ্যের হাডার্সফিল্ডে। ইংল্যান্ডের হয়ে ১৮৯৯ সাল থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত মোট ৫৮ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এই টেস্ট ম্যাচগুলিতে মোট ২৩৩৫টি রান করেছেন। তিনি টেস্ট ম্যাচে ২ হাজার রানের রেকর্ড তৈরী করেছেন। বোলিংও করতেন অসামান্য, তিনি তাঁর কেরিয়ারে ১২৭ টি উইকেট নিয়েছেন। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে ৪,২০৪ টি উইকেট নিয়েছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব। কিন্তু তাঁর এই রেকর্ডটি এখানে আলোচিত নয়। এটি প্রথম শ্রেণির উইকেট রেকর্ডে আলোচনার বিষয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর উইকেট সংখ্যায় বলে দেয় তিনি দীর্ঘদিন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন। তিনি ছিলেন স্লো বাঁহাতি স্পিনার। যদিও ওই যুগে তুলনামূলক প্রতিযোগিতা কম ছিল। ফলে রোডস তাঁর এই স্লোয়ার স্পিন দিয়ে এতো উইকেট পেতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমান প্রতিযোগিতার যুগে এটা সত্যিই অসম্ভব।


৬) অস্ট্রেলিয়ার পর পর ১৬ টি টেস্ট ম্যাচে জয় : অস্ট্রেলিয়া দল একের পর এক মোট ১৬ টি টেস্ট ম্যাচে জয় লাভ করে। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বে তাঁরা এই জয়লাভ করে। আর সেই জয় থামে ভারতের বিরুদ্ধে কলকাতার ইডেনে। যে ম্যাচে ভারত জয় পায় লক্ষ্মণ ও দ্রাবিড়ের ব্যাটে ভর করে। এরপর ২০০৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রিকি পন্টিং’র নেতৃত্বেও একটানা জয়লাভ করেছে টেস্ট ক্রিকেটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ১৬ বার কোনো দলের টেস্ট ম্যাচ জেতা চারটি খানি কথা নয়। তাঁদের মতে এই রেকর্ড ভাঙা একেবারেই সোজা নয়।


৭) চামিন্দা ভাসের বোলিং রেকর্ড : চামিন্দা ভাস, জন্ম গ্রহণ করেছেন শ্রীলঙ্কার ওয়াত্তালা শহরে। শ্রীলঙ্কার হয়ে শুরু করেন ক্রিকেটে কেরিয়ার। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি আটটি উইকেট তুলে নেন। ওই ম্যাচটিতে জিম্বাবুয়ে মাত্র ৩৮ রান তুলতে পারেন। এরপরই অল আউট হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০১ সালের শ্রীলঙ্কা জিম্বাবুয়ে ম্যাচ এক অবিস্মরণীয় ঘটনা।


৮) একদিনের ম্যাচে গ্রাহাম গুচের ৪৫৬ রান তোলার রেকর্ড : গ্রাহাম গুচ ইংল্যান্ডের হয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন। ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ড ও ভারতের টেস্ট ম্যাচে গ্রাহাম গুচ ৪৫৬ রান তোলেন। বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিলেন গ্রাহাম গুচ।


৯) ফিল সিমন্সের ০.৩ রেটে ১০ ওভার বলের রেকর্ড : ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ক্রিকেটে অভিষেক হয় ফিল সিমন্সের। পাকিস্তান ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি ম্যাচে ০.৩ রেটিংয়ে ১০ ওভার বল করেন ফিল সিমন্স। ফিল সিমন্সের এই কীর্তি ইতিহাস তৈরী করে।


১০) ক্রিস গেইলের রান রেকর্ড : ক্রিস গেইল ওয়েস্ট ইন্ডিজের একজন খ্যাতনামা খেলোয়াড়, খ্যাতনামা নন, জনপ্রিয়ও। ২০১৩ সালে আইপিএলে রয়াল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে খেলেন তিনি। সেই ম্যাচে ৬৬ বলে ১৭৫ রান তোলেন গেইল। ক্রিস গেইলের রানের ঝড়ে অবাক হয়ে যান দর্শক।


সূত্রঃ অনলাইন

Googleplus Pint
Akash Khan
Manager
Like - Dislike Votes 0 - Rating 0 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)