মুসাফির’ : ঢালিউডের নতুন দিনের ইউটার্ন [part-1]

মুভি রিভিউ April 29, 20162,677
মুসাফির’ : ঢালিউডের নতুন দিনের ইউটার্ন [part-1]

চলে মুসাফির…

‘মুসাফির’ নামটা শোনার পরেই আরো দুই মুসাফিরের নাম মাথায় আসে।কবি জসীমউদ্দীনের ভ্রমণকাহিনী ‘চলে মুসাফির’।আর একটি হলো শওকত ওসমানের নামকরা গল্প ‘দুই মুসাফির’।পথিক যদি পথের সৃষ্টি করে তবে জীবনপথে আমি, তুমি, সে আমরা সবাই মুসাফির।এ মুসাফিররা তাদের যার যার সংগ্রাম করে যাচ্ছে নিজের মতো।নির্মাতা আশিকুর রহমানও মুসাফির-এর গল্প শুনিয়ে জানালেন এরকম গল্প অনেকের আছে যাদের জীবনটা অ্যাডভেঞ্চারাস।


নামকরণের সার্থকতা..

পড়াশোনা করতে গিয়ে নিশ্চয়ই দেখেছেন এটা।অমুক গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো, তমুক চরিত্র কতটুকু সার্থক ইত্যাদি।সিনেমায় এসেও যদি বলি ‘মুসাফির’ নামটি কতটুকু সার্থক তবে সবার জীবনের সাথে দর্শন মেলাতে গেলে বলতেই হবে আমরা সবাই যেহেতু জীবনকে কড়ায় গণ্ডায় বুঝতে বুঝতে এসেছি তাই নামটা অালবত সার্থক।


ক্যাপ্টেন অব শিপ..

‘মুসাফির’ সিনেমার ক্যাপ্টেন অাশিকুর রহমান যিনি হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে আবার উঠে দাঁড়ানো নির্মাতা।লোকে সমালোচনা করলে সেটা স্বাভাবিক হিশেবে নিতে জানে।তাই ‘কিস্তিমাত, গ্যাংস্টার রিটার্নস’-এর দর্শক – সমালোচক মিশ্র প্রতিক্রিয়া হজম করে এবার নিজের জাত চিনিয়েছেন।তিনি এগিয়ে যাবেন না তো যাবেনটা কে! সিনেমাটির বাণিজ্যিক সব উপাদানকে ঢেলে সাজিয়ে একটা ককটেল বানালেন আর সেটাই দর্শককে বহুদিন বাদে উৎসবের আমেজ দিল।


গল্প ও মুসাফির..

সিক্রেট এজেন্সি নিয়ে দেশের সিনেমায় নতুন একটা সিনেমা যোগ হল এটা ভাবতেই ভালো লাগে।’অপারেশন’-এর দিক থেকে বিশ্বের অনেক সিক্রেট এজেন্সি তাদের কার্যক্রম চালায়।এ সিনেমায় সেটা ছিল ‘কভার্ট অপারেশন।’ তার মূল হোতা ছিল মিশা সওদাগর।শুভর মিথ্যা সাজানো মামলায় জেল খেটে বের হওয়ার পর প্রেমিকাকে খুন করার জন্য যে শপথ ছিল সেটার মোড় নেয়া গল্পই মুসাফিরের গল্প।সেদিক থেকে মারজানকে কিডন্যাপ করা এবং শুভর গন্তব্যের পথে একের পর এক বাধা এসবই সিনেমার টান টান উত্তেজনার অংশ।


মুসাফির শুভ..

সেদিন অফিসের কলিগের সাথে বাসে যেতে যেতে কথা হচ্ছিল।কথা প্রসঙ্গে বলছিল বর্তমান দেশের সিনেমা নিয়ে।উনি আরেফিন শুভর ভক্ত।বললেন ‘বহুদিন বাদে একটা জব্বর নায়ক পাইছি।’

আরেফিন শুভর এখন উত্তরণকাল।তাই তার সিনেমা নিয়ে, স্টাইল নিয়ে, অভিনয় নিয়ে সীমাবদ্ধতা বিচারের থেকে দরকার অ্যাপ্রিশিয়েট করা।’কিস্তিমাত, ওয়ার্নিং’-এর সমালোচনার পরে শুভ ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এ স্পষ্ট করেই দেখিয়েছে ঢালিউডে তার পথটা লম্বা।আজকের শুভ একটা ক্রান্তিকালের মুসাফির তাই তার সবকিছুতে একটা শব্দই হতে পারে সবচেয়ে দরকারি আর তা হলো ‘ডেডিকেশন।’এটুকু সম্বল করে শুভ এগিয়ে যাচ্ছে।তার সামনের সিঁড়িগুলো এগিয়ে যেতে হবে তাকে।

শুভর অভিনয় সিনেমায় এককথায় পরিণত।এক্সপ্রেশনগুলো দেখার মতো।সেগুলো ভাগ করলে এভাবে দাঁড়ায়

১.অ্যাকশন এক্সপ্রেশন – দৌড়ের সময় শুভর একটা ভিন্নতা আসে।বিশেষ করে ‘running movement’-এ তার চোখমুখের ভঙ্গি কিভাবে যেন অসাধারণ হয়ে ওঠে।এ সিনেমাতেও ছিল অনেকটাই ‘কিস্তিমাত’-এর ‘স্বপ্নেই ভেসে গেলে’ গানের মতো।অ্যাকশনের মধ্যে সবগুলো বলার দরকার নেই শুধু একটাই যদি বলি কভার হয়ে যায়।ট্রেনে জাদু আজাদকে বইয়ের পাতা মুড়িয়ে মাথায় কাপড় পরা যে মাথা ঘোরানো এক্সপ্রেশন ওটা সিম্পলি এক্সেলেন্ট।অভিজ্ঞ হচ্ছে শুভ এটা তারই লক্ষণ।

২. অ্যাঙ্গার এক্সপ্রেশন – রোমেলের সাথে মার্শাল ফাইটের সময় একদম শেষের দিকে যখন রোমেল মাটিতে পড়ে গেছে শুভ অাঙুল ডান বাম করে বুঝিয়ে দেয় এসব তার সাথে যেন না করে।ঐ অ্যাঙ্গার এক্সপ্রেশন দুর্দান্ত।

৩. রোমান্টিক এক্সপ্রেশন – রোমান্সে শুভ বরাবরই ভালো।মারজান জেনিফার সাথে খুনসুটিতে পেছন ফিরে তাকানো বা ‘আলতো ছোঁয়াতে’ গানের সবকটি এক্সপ্রেশন জাস্ট ওয়াও।

শুভর ব্যক্তিত্ব কোন লুকে বেটার লাগে? অনেক উত্তরই আসবে তবে এ সিনেমায় জেল খেটে বের হওয়া দাড়িগোঁফের শুভ ছিল অালাদা ব্যক্তিত্বের অধিকারী।দেখে মনে হবেই সে ক্যারেক্টারের সাথে মানাতে পরিশ্রমটা ভালোই শুরু করেছে।


নায়িকা সংবাদ..

মারজান জেনিফাকে নিয়ে সমালোচনায় মুখর সমালোচকরা।এর মধ্যে আক্রমণাত্মক সমালোচনাই ছিল বেশি।মেয়েটি নতুন তাই সময় দরকার তার এতটুকু বললেই চলে।রোমান্টিক এক্সপ্রেশন ভালো দিলেও কান্নায় সে আনকোরা।এ নিয়েই তো যত অভিযোগ।আরে ভাই কাঁদতে পারাটা কি এত সস্তা নাকি! সময় দেন শিখুক।যত সমালোচনা হয়েছে সে যদি শিখতে পারে তবে তার মঙ্গল।তবে মারজানের গ্ল্যামার প্রথম কাজ হিশেবে ভালো ছিল।’অালতো ছোঁয়াতে’ গানে সবচেয়ে ভালো ছিল।রোমান্টিক জায়গাগুলো তার সুন্দর হাসির কারণে অনেকটাই মানিয়ে গেছে।

.

পরের পর্ব দেখুন, part 2 upcoming!!