৫ টাকার দিনমজুর থেকে কোটিপতি কুস্তিগীর: সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায় যে জীবন

অনান্য খেলা 18th Aug 19 at 9:56am 901
Googleplus Pint
৫ টাকার দিনমজুর থেকে কোটিপতি কুস্তিগীর: সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায় যে জীবন

দ্য গেট খালি। তার পরিচয়ের জন্য এই নামটাই যথেষ্ট। ভারতের হিমাচল প্রদেশের গরীব পরিবারের ছেলে কিভাবে ‘দ্য গ্রেট’ হয়ে উঠলেন সে কাহিনী সিনেমার কাহিনীকেও যেন হার মানায়। সারা বিশ্ব আজ তাঁকে দ্য গ্রেট খালি হিসেবেই চেনে। খালির এই গ্রেট হওয়ার পিছনে যে কাহিনী রয়েছে তা শুনলে তাজ্জব হয়ে যেতে হয়। ‘দ্য ম্যান হু বিকেম খালি’ এই বইটিতে রয়েছে তার সাফল্যের কাহিনী।

হিমাচল প্রদেশের সিরমোর জেলার ধিরাইনা গ্রামের এক পাঞ্জাবি রাজপুত পরিবারে জন্ম খালির। বিশ্ব তাকে খালি হিসেবে চিনলেও তাঁর আসল নাম দলীপ সিংহ রাণা। হিমাচলে ছোট্ট গ্রামের সেই দলীপ ছিলেন ডব্লুডব্লুই’র পরিচিত মুখ। ভারতের প্রথম কুস্তিগীর যিনি ডব্লুডব্লুই’তে অংশ নিয়েছেন।

ছোটবেলায় এমনও দিন গিয়েছে যে স্কুলের আড়াই টাকা ফি দেয়ার সামর্থ্য ছিল না তাঁর পরিবারের।

‘দ্য ম্যান হু বিকেম খালি’ বইটিতে খালি বলেছেন, ১৯৭৯ সাল। সে বছর প্রচুর গরম ছিল। ফলে, তাঁর পরিবার ফসলের যে চাষ করেছিল তার সব শুকিয়ে যায়। পরিবারের হাতে টাকা ছিল না। ফলে, স্কুলের ফি দিতে পারেন্নি। আর ফি দিতে না পারার কারণে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয় তাঁকে।

খালির দাবি, স্কুলের শিক্ষক অন্য ছাত্রদের সামনে তাঁকে অপমান করেছিলেন। সে দিন খুব খারাপ লেগেছিল। স্কুলের সহপাঠীরাও হাসি-ঠাট্টা করতে শুরু করে।

এরপরই, খালি সিদ্ধান্ত নেনে তিনি আর স্কুলমুখো হবেন না। স্কুলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন। সেই শেষ স্কুলে যাওয়া। এরপরই, দিনমজুরের কাজে লেগে পড়েন তিনি।

দিনমজুরের কাজ করার পাশাপাশি বাবার চাষের কাজেও সাহায্য করতেন তিনি। আট বছর বয়স থেকেই দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। এর জন্য মজুরি হিসেবে দৈনিক ৫ টাকা পেতেন। আর এতটুকু ছেলের কাছে এটা ছিল বড় মূলধন।

খালিরা ছিলেন সাত ভাইবোন। ছোটবেলায় খালি অ্যাক্রোমেগালি নামে এক দুর্লভ রোগে আক্রান্ত হন। তারপর থেকেই তাঁর চেহারায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এই রোগের বিশেষত্ব হল, দেহের আকৃতি বিশাল হয়। মুখ লম্বাকৃতির হয়।

তাঁর বিশাল চেহারার জন্য খালি শিমলাতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ পান। এই কাজ করার সময় এক পুলিশ আধিকারিকের চোখে পড়েন তিনি। এরপর, বিশাল দেহকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯৩ সালে পাঞ্জাব পুলিশে যোগ দেন খালি।

তবে, পুলিশ নয় কুস্তিগীর হওয়াই খালির লক্ষ্য। তাই জালন্ধরে পৌঁছেই জিমে ঢোকের। নিজেকে কুস্তিগীর হিসেবে প্রস্তুত করেন। ১৯৯৭ এবং ১৯৯৮ সালে পরপর দু’বার মিস্টার ইন্ডিয়া হন তিনি।

মিস্টার ইন্ডিয়া হওয়ার পরই, আমেরিকা থেকে স্পেশাল রেসলিং ট্রেনিংয়ের জন্য ডাক পান। ২০০০ সালে প্রথম পেশাদার রেসলার হিসেবে ‘জায়ান্ট সিংহ’ নামে অল প্রো রেসলিংয়ে নামেন।

২০০৬ সালে প্রথম ভারতীয় পেশাদার রেসলার হিসেবে ডব্লুডব্লুই এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। আর ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট বিভাগে ডব্লুডব্লুই চ্যাম্পিয়ন হন।

এই মুহূর্তে বছরভর ডব্লুডব্লুই থেকে বেতন পান প্রায় ৭ কোটি টাকা। আর বোনাস পান ২ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা। এছাড়াও ব্রান্ড এনডর্সমেন্ট পান প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা।

সূত্র: আনন্দবাজার

Googleplus Pint
Akash Khan
Manager
Like - Dislike Votes 0 - Rating 0 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)