ফেরার ম্যাচে মুস্তাফিজের ৪১ বলের ৩২টিই ডট!

ক্রিকেট দুনিয়া 08 Apr 2019 at 9:12pm 581
Googleplus Pint
ফেরার ম্যাচে মুস্তাফিজের ৪১ বলের ৩২টিই ডট!

ওয়ানডে অভিষেক মুস্তাফিজুর রহমান যেভাবে রাঙিয়েছিলেন তা মনে আছে সবারই। ভারতের বিপক্ষে নিজের প্রথম ম্যাচে পেয়েছিলেন ৫ উইকেট। কিন্তু লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে মুস্তাফিজের অভিষেক মনে আছে? সময়টা ছিল ২০১৪ সাল। ২৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রঙিন পোশাকে অভিষেক মুস্তাফিজের।

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ২০১৪-১৫ আসরে আবাহনীর জার্সিতে প্রথমবার রঙিন পোশাকে মাঠে নামেন মুস্তাফিজ। সেই বছরই তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক খুলনার হয়ে। সব মিলিয়ে ক্রিকেট পাড়ায় খুবই নতুন মুখ ছিলেন বাঁহাতি পেসার।

কিন্তু রঙিন পোশাকে অভিষেকেই নিজের আগামণী বার্তা জানিয়ে দিয়েছিলেন সাতক্ষীরার এ পেসার। আবাহনীর জার্সিতে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৩২ রানে পেয়েছিলেন ৫ উইকেট। জুপিটার ঘোষ, জেহান মোবারক, তাসামুল হক, আব্দুর রাজ্জাক ও তাপস ঘোষের উইকেট পেয়েছিলেন মুস্তাফিজ।

ওই আসরে ৫ ম্যাচে তার উইকেট ছিল ১২টি। এরপর দীর্ঘ চার বছর কেটে গেল মুস্তাফিজের দেখা নেই ঢাকা লিগে। শেষবার তাকে সাইন করেছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। কিন্তু মতিঝিল পাড়ার দলটির হয়ে খেলা হয়নি তার। অবশষে এবার মুস্তাফিজ নামলেন ঢাকা লিগে।

প্লেয়ার্স ড্রাফটে তাকে দলে নিয়েছিল শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ ঘটনার পর দেশে ফিরে সাতক্ষীরায় চলে গিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। সেখানে নতুন জীবন শুরু করেন। ছুটি কাটিয়ে আজ ঢাকা লিগে ফিরেছেন বাঁহাতি পেসার। নিজের ফেরার ম্যাচে দলকে জেতাতে না পারলেও মুস্তাফিজ ভালো বোলিংয়ে নিজের ছাপ রেখেছেন।

মিরপুরে নতুন বলে বোলিং শুরু করেন মুস্তাফিজ। ওয়ালিউল করিমকে করা প্রথম বলটি ছিল অফস্ট্যাম্পের বাইরে ফুলটস। পরের বল টো বরাবর ইয়র্কার। বল মিস করে এলবিডব্লিউ ওয়ালিউল। নতুন ব্যাটসম্যান ইমরুলকে হাফ ভলি দিয়ে প্রথম বলেই বাউন্ডারি হজম করেন এ পেসার। দারুণ কাটারে পরের বল ভেতরে ঢুকিয়েছিলেন।

কোনোমতে ব্যাট লাগিয়ে এক রান নেন ইমরুল। মেহেদী পঞ্চম বলে এক রান নিয়ে খোলেন রানের খাতা। শেষ বলে ইমরুলকে সাজঘরের পথ দেখান এ পেসার। স্লোয়ার ডেলিভারিতে মিড অনে ক্যাচ দেন ইমরুল। প্রথম ওভারেই ৬ রানে মুস্তাফিজের সাফল্য খাতায় যোগ হয় ২ উইকেট।

পরের ওভার মেডেন। শামসুরকে অফস্ট্যাম্পের বাইরে ধারাবাহিক লাইনে বোলিং করে যান। বারবার পরাস্ত হচ্ছিলেন শামসুর। অপেক্ষা করছিলেন বাজে বলের। কিন্তু ওই ওভার থেকে কোনো রানই পাননি ডানহাতি ব্যাটসম্যান। থিতু হয়ে অবশ্য প্রতিশোধ নেন পরের ওভারে।

মুস্তাফিজের দুই শর্ট বলে কভার দিয়ে তুলে দুটি বাউন্ডারি মারেন গাজী গ্রুপের এ ব্যাটসম্যান। এক ওভার পর আবার বাউন্ডারি। শামসুরের ব্যাটে তিন বাউন্ডারি হজম করলেও দমে যাননি মুস্তাফিজ। বোলিং বৈচিত্র্যে নিজের পঞ্চম ওভারে পেয়ে যান সাফল্যে। মেহেদী হাসানকে উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করান এ পেসার। প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ২০ রানে ৩ উইকেট নেন মুস্তাফিজ।

২০তম ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে ফেরেন এ বোলার। ফিরে প্রথম ওভারটি আবার মেডেন। এবারও ব্যাটিংয়ে শামসুর। পরের ওভারে কামরান গুলাম প্রথম চার বলে রান পাননি। পঞ্চম বলে নেন এক রান। কিন্তু ওভার শেষ করতে পারেননি। এরপরই বৃষ্টির হানা।

আগুনে বোলিংয়ে শাইনপুকুর জয় পায়নি ঠিকই, কিন্তু বোলিংয়ে ফিরে মুস্তাফিজ ছিলেন অনবদ্য। ৬.৫ ওভারে ১ মেডেনে ২৩ রানে নেন ৩ উইকেট। তার করা ৪১ বলের ৩২টিতেই কোনো রান নিতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। চার বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরে হয়তো এমন বোলিংই চেয়েছিলেন মুস্তাফিজ।

সূত্রঃ রাইজিংবিডি

Googleplus Pint
Akash Khan
Manager
Like - Dislike Votes 0 - Rating 0 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)