১৬ বছর বয়সেই বিয়ে করেছিলেন মোসাদ্দেক

খেলাধুলার বিবিধ 28th Aug 18 at 10:42am 769
Googleplus Pint
১৬ বছর বয়সেই বিয়ে করেছিলেন মোসাদ্দেক
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন করে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী সামিনা শারমিন (সামিয়া)।

২২ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডারের মামলার কারণে কাবিননামা সূত্রে জানা গেছে মোসাদ্দেক বিয়ে করেছেন আরও ৬ বছর আগে ২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর। সেই হিসেবে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এ ক্রিকেটার।

তাহলে কি মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাল্যবিবাহের অপরাধ করেছিলেন মোসাদ্দেক? আপাতদৃষ্টিতে এই বিয়েকে বাল্যবিবাহই বলা যায়। কারণ ২০১২ সালে মোসাদ্দেক বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এমনকি বিয়ের ঠিক আগে যুব দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরও করেছিলেন তিনি।

এছাড়া দেশে ফিরে বিয়ে করতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। এমনটাই দাবি সামিয়া শারমিনের বড় ভাইয়ের (সম্পর্কে মোসাদ্দেকেরও খালাতো ভাই)।অভিযোগপত্র তিনি জানান বাল্যবিবাহের বৈধতা দিতে তখন নিজের বয়স বাড়িয়ে ২২ বছর লিখে দেন মোসাদ্দেক। কিন্তু কাগজপত্র অনুযায়ী ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ২২ বছর পূর্ণ হয়েছে তার।

শুধু বিয়ের কাগজে বয়স লুকিয়েই নয়, মোসাদ্দেক ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে বিসিবির সাথেও, এমনটাই জানান মোজাম্মেল কবির। এতো অল্প বয়সে জাতীয় দলে কোন বিবাহিত ক্রিকেটার নেয়া হবে না জানিয়ে মোসাদ্দেক নিজের বিয়ের খবরটি গোপন রেখেছিলেন বলে জানান মামলার প্রধান সাক্ষী ও সামিয়া শারমিনের বড় ভাই মোজাম্মেল কবির।

মামলার বিবরণীতে সামিয়া বলেন, আমার স্বামী বাংলাদেশ জাতীয় দলের একজন নিয়মিত ক্রিকেটার। সে খেলার অজুহাতে বেশির ভাগ সময় ঢাকার বাসায় বসবাস করতেন। মাঝে মধ্যে ময়মনসিংহে আসত। এই অবস্থায় আমি স্বামীর সংসার করতে থাকি।

জাতীয় দলের খেলোয়ার হিসাবে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করতেন। সে সুবাদে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে তার পরিচয় হয়। বিভিন্ন জনের মাধ্যমে আমার স্বামীর পরকীয়া ও অবাধে মেলামেশার কথা জানতে পারি। পরে পরকীয়া ও অবাধে মেলামেশার কথা জানতে চাইলে, সে আমাকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত।

এরই মধ্যে সে (মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত) ঢাকায় একটি ব্যবসা করবে বলে আমাকে বাবার বাড়ি থেকে দশ লাখ টাকা যৌতুক বাবদ এনে দেয়ার কথা বলে। টাকা না দিতে পারায় শাশুড়ির প্ররোচনায় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আমার উপর শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতন সহ্য করে এ ভাবেই সংসার করতে থাকি।

এর মধ্যে আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি বাবার বাড়িতে আসি। ১৪ আগস্ট আমাকে মোবাইল ফোনে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। ১৫ আগস্ট দুপুরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও শাশুড়ি বলেন এক সপ্তাহের মধ্যে দশ লাখ টাকা না দিতে পারলে দশ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করবে বলে আমাকে জানায়।

পরে এর প্রতিবাদ করতেই আমার চুল ধরে নাকে-মুখে মারতে মারতে রক্তাক্ত করে ও বুকে-পেটে লাথি মেরে আমাকে ফেলে দেয়। আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন টের পেয়ে রক্ষা করে। পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আমার বাবার বাড়িতে ফোন করে খবর দেয়।

আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পরে আমার ভাই এনামুল হক সুমনের সাথে আমি বাবার বাড়িতে চলে আসি। এ অবস্থায় আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে মামলা করি।

অন্যদিকে স্ত্রী সামিরার মামলার বিষয়ে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ও আমাকে আলাদা সংসার গড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু আমার বাবা নেই, যে মায়ের কারণে আমি আজ ক্রিকেটার। সেই মাকে ছেড়ে কিভাবে আলাদা থাকি? এটা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি ওকে এটা নিয়ে অনেক বুঝিয়েছি।’

সৈকত আরও বলেন, ‘আমি যখন খেলার কারণে ট্যুরে থাকতাম তখন ও আমার মার সঙ্গে ঝগড়া করত। মাকে একাধিকবার মেরেছেও। এসব কারণে আমি গত ১৬ আগস্ট তাকে কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স দেই।’

স্ত্রীর যৌতুকের অভিযোগ নিয়ে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘দেখেন ওকে আমি গত ১৬ আগস্ট তালাক দিয়েছি। তার আগে ও কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। তালাক দেয়ার পর ও নাটক শুরু করেছে। আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্ত করছে।

মোসাদ্দেক আরও বলেন, ‘আমি মনে করি যে এত খারাপ সময় আমার আসেনি যে যৌতুক নিয়ে আমার চলতে হবে। আমি শুনেছি যে ডিভোর্স দিলে নাকি এমন নারী নির্যাতন বা যৌতুকের একটা মামলা করা হয়। তারাও হয়তো তাই করেছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সাথে তার আপন খালাতো বোন সামিয়া শারমিনের বিয়ে হয়। -বিডি২৪লাইভ
Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Manager
Like - Dislike Votes 0 - Rating 0 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)