ত্বকের পরিচর্যায় চায়ের ব্যবহার

রূপচর্চা/বিউটি-টিপস October 26, 2017 481
ত্বকের পরিচর্যায় চায়ের ব্যবহার

প্রতিদিন সকালে এককাপ চা ছাড়া আমাদের অনেকেরই দিন শুরু হয় না যেন! এই চা কিন্তু আমাদের রূপচর্চার কাজেও সমান কার্যকর।


চায়ে আছে এমন অনেক উপাদান যা শুধু আপনার ত্বকের সৌন্দর্যকে বাড়াবে না, সাথে ত্বকের নানা সমস্যাও দূর করবে। ক্লিনজার থেকে টোনার, স্ক্রাবার থেকে ফেসপ্যাক যেকোনো কিছুতে সবুজ চায়ের বিকল্প খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই অল্প সময় ব্যয় করে জেনে নিন প্রাকৃতিক রূপচর্চায় সবুজ চায়ের ব্যবহার।


গরম পানিতে গ্রিন টি আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ঠান্ডা হলে ছেঁকে একটি কাচের পাত্রে নিয়ে এর সাথে গোলাপজল, গ্লিসারিন, অ্যালোভেরার রস ভালো করে মিশাতে হবে। এরপর মিশ্রণটি একটি বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। মুখ ধোয়ার পর তুলায় এই টোনার নিয়ে মুখ ও গলা মুছে ফেললে অনেক ভালো টোনার হিসেবে কাজ হবে। নিয়মিত লাগালে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, ত্বক টানটান হবে। ত্বক হবে উজ্জ্বল।


৩-৪ টি গ্রিন টি ব্যাগ ১ লিটার পানিতে এক ঘণ্টা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এরপর চুল শ্যাম্পু এবং কন্ডিশন করার পর সেই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি আপনার চুল শক্ত ও মজবুত করে। চুল পড়া কমাতেও আপনি ব্যবহার করতে পারেন গ্রিন টি। এটি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং হেয়ার ফলিকল উদ্দীপিত করে যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।


গ্রিন টি ক্লিনজার হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। এক টেবিল চামচ সাধারণ ক্লিনজারের সাথে এক টেবিল গ্রিন টি মিশিয়ে নিয়ে। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে। এরপর হাত ভিজিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে। ত্বকে জমে থাকা ধুলোময়লা, ঘাম, তেল পরিষ্কার হয়ে যাবে। ত্বকে আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় থাকবে।


এক টেবিল চামচ বেসন, একটা ডিমের সাদা অংশ, এক চা চামচ মধু, এক চা চামচ কাঠবাদামের গুঁড়ার সাথে পরিমাণমতো চায়ের লিকার মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্ট মুখে, গলায়, ঘাড়ে লাগিয়ে নিয়ে। শুকিয়ে গেলে আলতো ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলতে হবে। দেখবেন ত্বকের উজ্জ্বলভাব বেড়ে যাবে অনেক গুণে।


এক টেবিল চামচ মিহিদানার চিনি, এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, এক চা চামচ কাঠবাদামের গুঁড়া, পরিমাণমতো গ্রিন টি ও গোলাপজল একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। গ্রিন টি না থাকলে ব্ল্যাক টিও ব্যবহার করতে পারেন। এবার মিশ্রণটি মুখে ও গলায় ভালো করে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে কিছুক্ষণ ঘষে ধুয়ে ফেলুন। মরা কোষ সহজে দূর হয়ে যাবে। ত্বকের কালো ছোপছোপ দাগ অনেক হালকা হয়ে যাবে। ত্বক হয়ে উঠবে কোমল, মসৃণ ও উজ্জ্বল।


অর্ধেক কলা, ১ চা চমচ গ্রিন টি , ১ চা চমচ মধু এবং ১ চা চমচ টক দই ভালো মতো মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে। তারপর শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি শুষ্ক ত্বকের জন্য খুব ভালো ময়েশ্চারাইজিং মাস্ক হিসেবে কাজ করে।


ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে গ্রিন টি ডিওডোরেন্ট হিসেবে ভালো কাজ করে। গোসলের পর ঠান্ডা গ্রিন টি আন্ডারআর্ম এ লাগালে দুর্গন্ধ দূর হবে। ঠিক এমনিভাবে পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।