তেঁতুলের শরবতে হবে শান্তির ইফতারি

ফলের যত গুন May 31, 2017901
তেঁতুলের শরবতে হবে শান্তির ইফতারি

রমজান মাসে চলছে বাহারি খাবারের আয়োজন। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, এই গরম আর লম্বা দিনে ইফতারে চাই পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাবার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে ভাজাপোড়া কমিয়ে বেশি বেশি ফল রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তাই রমজান মাসজুড়ে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হবে বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ। আজ জানুন জিভে জল আনা তেঁতুল সম্পর্কে। ইফতারে তো আর তেঁতুলের আচার বা চাটনি তেমন চলে না, তাই আছে শরবত


কোলেস্টেরল


আমাদের দেহের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা কমিয়ে এনে কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের যত্ন নেয় তেঁতুল। কারণ এতে রয়েছে ফেনোল আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। উপকারী কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) পরিমাণ বাড়াতেও ভালো কারসাজি জানে এই ফল।


হজম


পেটের সমস্যা নিরাময়ে বেশ কাজে দেয় তেঁতুল। দুই চা চামচ তেঁতুলের পেস্ট পানিতে গুলিয়ে খেলে পেটে আরাম লাগবে। এর ভক্ষণযোগ্য ফাইবার বর্জ্য তৈরি ও অপসারণে ভূমিকা রাখে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে আয়ুর্বেদের অন্যতম উপকরণ তেঁতুল।


চায়ের সঙ্গে


জ্বর ও শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসার মতো সমস্যায় ভেষজ চা বেশ উপকারী। এই চা আবার ভালো প্রতিষেধক হয়ে যাবে, যদি এর সঙ্গে তেঁতুলের পাতা মেশানো যায়।


ভিটামিন


ভিটামিন ‘সি’-এর অভাবে দেহে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তেঁতুল এর বিরুদ্ধে ভালোই লড়াই করতে পারে।


আলসার


তেঁতুলের শরবতে একটু পুদিনা পাতা মেশালে তা মুখের আলসার দূর করতে দারুণ কাজে দেয়। গরম ও ঝাল উপাদানে যখন আলসারে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, তেঁতুল তখন তাকে শীতল করে।


রক্ত


রক্তের লোহিত কণিকা গঠনে এবং স্বাস্থ্যকর কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের জন্য বেশ উপকারী তেঁতুল। কারণ এটি খনিজ ও ভিটামিনে ঠাসা।


ফাইবার


টানিন্স, মুসিলেজ ও পেক্টিনের মতো খাবারযোগ্য ফাইবারে পূর্ণ তেঁতুল। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১০০ গ্রাম তেঁতুলের পেস্ট প্রতিদিনের জরুরি ১৩-১৫ শতাংশ ফাইবারের চাহিদা পূরণ করে।


ক্যান্সার


দেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে—এমন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের বিরুদ্ধে কাজ করে তেঁতুলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এ ছাড়া থাইরয়েডের রোগে যারা ভুগছে, তাদের খাদ্যতালিকায় তেঁতুল রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।


ডায়াবেটিস


রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে এনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পটু তেঁতুল। এ রোগ সামাল দিতে দীর্ঘদিন ধরে হারবাল উপাদান এবং জামের সঙ্গে তেঁতুল অন্যতম মন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


অ্যান্টিডোট হিসেবে


অ্যালকোহল বা বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের তেঁতুলের শরবত দিলে এর প্রভাব খুব দ্রুত কেটে যায়। এ ক্ষেত্রে তেঁতুল পুরোপুরি অ্যান্টিডোট হিসেবে কাজ করে।


স্নায়ুতন্ত্রের জন্য


এতে আছে অতি জরুরি ভিটামিন ‘বি কমপ্লেক্স’। এই পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থিয়ামিন। স্নায়ুতন্ত্রের সুষ্ঠু কর্মকাণ্ডের জন্য থিয়ামিনের দরকার, যা প্রচুর পরিমাণে তেঁতুলে রয়েছে।


সাবধানতা


অতিরিক্ত তেঁতুল রক্তচাপ কমিয়ে দেয় এবং রক্ত পাতলা করে। দেখবেন, কোথাও কেটে গেলে রক্ত বন্ধ হতে চায় না। তাই বেশি মাত্রায় তেঁতুল খেতে মানা করেন বিশেষজ্ঞরা।