ভূমিকম্পের পর অবশ্যই যা ঘটবে!!

মজার সবকিছু April 16, 2016 1,213

কিছুদিন পরপর ভূমিকম্প হয় এবং প্রতিবারেই কিছু একই ধরনের ঘটনা ঘটে। এই অবশ্যই ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়েই এই আয়োজন-


১. প্রত্যেক ভূমিকম্পের পর একদল চিন্তাবিদ/ ভাবনাবিদ পাওয়া যায়, যাঁরা ভূমিকম্পের সময় ভাবেন কম্পন না, আসলে তাঁর নিজের মাথা ঘুরছে কিংবা চেয়ার ধরে কেউ দোলা দিচ্ছে!


২. একদল গণ্ডারের চামড়াযুক্ত মানুষ পাওয়া যায়, যাঁরা ৬/৭ মাত্রার ভূমিকম্পও টের পান না। ঘুমিয়ে থাকলে ঘুম থেকে উঠে বাইরের হৈচৈ দেখে কাউকে প্রশ্ন করেন, কি ভাই, কী হইছে? সবাই এত দৌড়াদৌড়ি করল ক্যান?


৩. একদল অতি চালাক চতুর লোক পাওয়া যায়, যাঁরা ভূমিকম্পের পর নিজের ক্ষমতা জাহির করতে গিয়ে বলেন তিনি মোটেও ভয় পাননি। অথচ খোঁজ নিলে দেখা যাবে, সবার আগে তিনিই দৌড়ে রাস্তায় নেমেছেন!


৪. ভূমিকম্পের পর অবশ্যই কিছু গল্প কথক পাওয়া যাবে। যাঁরা ইনিয়ে বিনিয়ে, ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ভূমিকম্পের রগরগে বর্ণনা করবেন। তাঁদের গল্পগুলো হয় এ রকম- ‘জানিস কি হলো? আমি দেখলাম দেয়াল ঘড়ি কাঁপতেছে, ছাদ প্রায় ভেঙে পড়বে পড়বে অবস্থা। প্রথমে টেবিলের নিচে লুকানোর ইচ্ছে করেছিল, কিন্তু টেবিল তো নড়বড়ে। কী করব বুঝতে পারছিলাম না, এদিকে বিল্ডিং ভেঙে পড়ে পড়ে এমন অবস্থা। অগত্যা, এক টানে দরজা খুলে লাফিয়ে লাফিয়ে তিন সেকন্ডে ছয় তলা থেকে নিচতলায় নামলাম। নেমে দেখি, ও মা! আরো অনেকেই রাস্তায়...।’


৫. ভূমিকম্পের সময় একদল ইঁচড়ে পাকা যুবক পাওয়া যায়, যাঁরা ভূমিকম্পের সময় রাস্তায় নেমে পাশের ফ্ল্যাটের মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে মেকআপ ছাড়া কোনো মেয়েকে কেমন লেগেছে এই ধরনের বিষয় নিয়ে বন্ধু সার্কেলে রসিয়ে রসিয়ে আড্ডা মারে!


৬. ভূমিকম্প শেষ হলে এর আফটার শক শুরু হয় ফেসবুকে। অনেকেই ভূমিকম্প চলাকালীন অবস্থাতেও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। সবার আগে যাঁরা স্ট্যাটাস দিতে পারেন তাঁরা নিজেদের ভাগ্যবান ভাবা শুরু করেন।


৭. ভূমিকম্পের পর নিজেরা নিরাপদে থাকলে ফোন করে প্রিয় মানুষদের খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেন। মোবাইল কোম্পানির নেটওয়ার্কগুলো হঠাৎ করে ডাউন হয়ে যায়। এদিক থেকে অনেকে ভূমিকম্পকে সামাজিক সাক্ষাতের উপলক্ষ মনে করে থাকেন।


৮. ফেসবুকে শুরু হয় আরেক সার্কাস। ‘মার্ক সেইফ জোন’ এর নোটিফিকেশন আসতে শুরু করে। যে ভূমিকম্প টের পেয়েছে সেও মার্ক সেফে নোটিফিকেশন দেয়, যে পায়নি সেও দেয়। ক্ষেত্র বিশেষে দেখা যায়, জাপানে ভূমিকম্প হয়েছে অথচ বাংলাদেশের লোক মার্ক সেফ নোটিফিকেশন দিচ্ছে!


৯. এবং সবশেষে, প্রতিটা ভূমিকম্পের পর পরই বিভিন্ন শহরে কিছু ভবনে ফাটল দেখা যায়। কিছু ভবন হেলে পড়ে। লোকজন ভূমিকম্প, অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ে টক শো, ফেসবুক সবজায়গা গরম করতে করতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী ভূমিকম্প না হওয়া পর্যন্ত বিষয়গুলো চাপা পড়ে যায়। হেলানো ভবন

হেলানোই থাকে আর অপরিকল্পিত নগর অপরিকল্পিতই থেকে যায়।