করলার রয়েছে বহু গুণ

সাস্থ্যকথা/হেলথ-টিপস April 16, 2017 553
করলার রয়েছে বহু গুণ

তেঁতো বলে অনেকেই করলা নামের এই সবজিটি খেতে চান না। তবে এ সবজিটির রয়েছে বহু গুণ।


▶ করলার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা


করলায় প্রচুর পরিমানে আয়রণ রয়েছে। আয়রণ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। করলায় যথেষ্ট পরিমানে বিটা ক্যারোটিন আছে।


এমনকি ব্রকলি থেকেও দ্বিগুণ পরিমানে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে এতে। দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বিটা ক্যারোটিন উপকারী।


পালংশাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমান পটাশিয়াম করলায় রয়েছে। দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরী। ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন।


করলায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন-সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য একান্ত জরুরী। ভিটামিন সি আমাদের দেহে প্রোটিন ও আয়রন যোগায় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে।


ফাইবার সমৃদ্ধ করলা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমায়।

করলায় রয়েছে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম।


অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে। ডায়বেটিসের পেশেন্টের ডায়েটে করলা রাখুন। করলায় রয়েছে পলিপেপটাইড পি, যা ব্লাড ও ইউরিন সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস ও করলা সিদ্ধ খেতে পারেন।


নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম এর সমস্যায় করলা উপকারী। ব্লাড পিউরিফিকেশনে সাহায্য করে। স্কিন ডিজিজ ও ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে।


▶ করলা পাতার রসের উপকারিতা


করলা পাতার রস খুবই উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এনার্জি ও স্টেমিনা বাড়িয়ে তুলতেও করলা পাতার রস সাহায্য করে।


অতিরিক্ত এলকোহল খাওয়ার অভ্যাস থেকে লিভার ড্যামেজড হলে , সে সমস্যায় করলা পাতার রস দারুন কাজে দেয়। শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন ফ্লাশ আউট করতে সাহায্য করে।


কলেরা বা ডায়রিয়ার প্রথম পর্যায়ে উচ্ছে পাতার রস খেতে শুরু করলে ভাল। উচ্ছে পাতার রস, লেবুর রস ও পেঁয়াজের রস মিশিয়ে খেলে উপাকার হয়।


ব্লাড ডিজঅর্ডার সমস্যায় লেবুর রস ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন।


করলা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।


এর মাধ্যমে সোরিয়াসিসের সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভভ হয়।


▶ করলা সংরক্ষণ করবেন যেভাবে


ফ্রিজের ভেজিটেবল বাস্কেটে করলা রাখুন। বেশিদিন উচ্ছে ফেলে রাখবেন না। বাজার থেকে কেনার ৩-৪ দিনের মধ্যেই খেয়ে ফেলা ভাল।


রুম টেম্পারেচারে অন্যান্য সবজির সঙ্গে করলা রাখলে পেকে গিয়ে হলুদ হয়ে যেতে পারে। করলা আলাদা রাখার চেষ্টা করুন। পরিষ্কার পানিতে করলা ভাল করে ধুয়ে রান্না করুন।


▶ সতর্কতা


একদিনে অতিরিক্ত পরিমানে করলা খাবেন না। তলপেটে সামান্য ব্যথা হতে পারে।


ডায়বেটিস রোগীরা ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন সারাদিনে কতটা পরিমাণে তেতো খেতে পারবেন।


সুগারের ওষুধের সঙ্গে তেতোর ভারসাম্য বজায় রাখা দরকার।


গর্ভবতী মহিলারাও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস খাবেন।