কী করে বাড়িতেই বানাবেন পারফিউম?

হাতে কলমে, টুকিটাকি জিনিস হাতে তৈরি March 30, 2017 3,187
কী করে বাড়িতেই বানাবেন পারফিউম?

গরমকাল মানেই অতিরিক্ত ঘাম। আর অতিরিক্ত ঘাম মানেই শরীরে দুর্গন্ধ। তাই বছরের এই সময়টায় পারফিউমের ব্যবহার বেড়ে যায়। যে ব্যক্তি সারাবছর পারফিউম মাখেন না, তিনিও গরমে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় পারফিউম স্প্রে করে বের হন। অনেকের আবার পারফিউম সহ্য হয় না। ত্বক এতই সেন্সিটভ, যে পারফিউম স্প্রে করলে ফুসকুড়ি হয়। ত্বক জ্বলতে থাকে।


পারফিউমের আরও অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। চর্মরোগবিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত পারফিউম ব্যবহারের কারণে ত্বকে ক্যান্সারও হতে পারে।


বাজারে অনেক ধরনের পারফিউম পাওয়া যায়। খুব কম দামেরও পাওয়া যায়, আবার খুব বেশি দামেরও পাওয়া যায়।


১৫০-২০০ টাকার সস্তার পারফিউম ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে ২০০০ টাকা, ৩০০০ টাকারও পারফিউম বিক্রি হয়। সেগুলির গন্ধ দারুণ। ত্বকের জন্যে নিরাপদ। কিন্তু হাজার হাজার টাকা খরচ করে পারফিউম কেনার ক্ষমতা সবার থাকে না। তাঁরা বেছে নেন সস্তার পারফিউম। ফলে, ত্বকের ক্ষতি হয়। তবে এবার সেই সমস্যা মিটতে পারে। প্রয়োজনীয় সামগ্রী জোগাড় করে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন মনের মতো পারফিউম। কম খরচে পেয়ে যাবেন মনের মতো সুবাস।


দামি পারফিউম তৈরি হয়ে বিশেষ পারফিউম বেসের সাহায্যে। সেই পারফিউম বেসের খুব চড়া গন্ধ। একবার স্প্রে করলে ২৪ ঘণ্টা গন্ধ থাকে। এমনকী, কাপড় কাচার পরও গন্ধ যেতে চায় না। ওই পারফিউমে অ্যালকোহল মেশানো থাকে। কিন্তু আমরা বাড়িতে যে পারফিউম তৈরি করব, সেটি অ্যালকোহল বেসড্ পারফিউম নয়। আমরা তৈরি করব অয়েল বেসড্ পারফিউম।


তৈলাক্ত পারফিউমের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না। ৪০০০ বছর আগে গ্রিস, রোম ও ইজিপ্টে অয়েল বেসড্ পারফিউমই ব্যবহার হত। ব্যবহার করা হত প্রাকৃতিক উপাদান। আমরাও সেই একই পদ্ধতিতে পারফিউম তৈরি করব।


এর জন্য প্রয়োজন -

১.নন-পানজেন্ট বেস অয়েল (কটু গন্ধ নেই এমন তেল) : গ্রেপ সিড অয়েল বা সুইট আমন্ড অয়েল যে কোনও ওষুধের দোকানে পেয়ে যাবেন। খুব একটা দামি নয়। অলিভ অয়েল এড়িয়ে চলাই ভালো। না হলে খাবারে ড্রেসিংয়ের মতো গন্ধ আসবে। জোজোবা অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন।


২.এসেনশিয়াল অয়েল : ভালো মানের এসেনশিয়াল অয়েল, যেমন - রোজ় মাহক, স্যান্ডেলউড, ভায়োলেট লিফ, ওকমস তেলের দাম তুলনামূলক বেশি। কমদামি এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন নেরোলি, সুইট অরেঞ্জ, জিঞ্জার, ভ্যানিলা, গ্রেপফ্রুট, লেমন, জেরানিয়াম, ইলাং ইলাং, ফ্র্যাঙ্কিনসেন্স, সিডারউড, জ্যাসমিন, ক্যামোমাইল, মিন্ট ও ল্যাভেন্ডার।


৩.সুদৃশ্য বোতল : যে কোনও বোতলে পারফিউম ঢেলে রাখলে চলবে না। এর জন্য চাই মোটা কাচের বোতল, যার ঢাকনা টাইট।


পদ্ধতি

১. বোতলের চারভাগের তিনভাগে বেস অয়েল ঢেলে নিন।


২. তারপর তাতে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল দিন। আপনার পছন্দসই যে কোনও একটি এসেনশিয়াল অয়েল দিতে পারেন। বোতলের মুখ বন্ধ করে ভালো করে মেশান।


৩. গন্ধ খুব কড়া হয়ে গেলে আরেকটু বেস অয়েল মেশাতে পারেন।


প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি অয়েল বেসড্ পারফিউমে ক্ষতিকারক প্যারাবেন থাকে না। থাকে না কোনও সিন্থেটিক উপাদান। ঘরে তৈরি করা এই পারফিউমটিতে আপনি চাইলে কিছু ন্যাচারাল ফিক্সেটিভ ব্যবহার করে সুবাসকে আরও চনমনে করে তুলতে পারেন। যেমন স্যান্ডেলউড, প্যাচুলি, ওরিস রুট, ভেটিভার, বেনজ়ইন, মাইর। পারফিউম তৈরির সময় অনুপাতে কোনও গোলমাল হলে তাতে সামান্য অরেঞ্জ অয়েল মিশিয়ে দিতে পারেন।


- ইন্টারনেট