ভালোবাসা যখন দূরদেশে

লাইফ স্টাইল March 27, 2017 1,091
ভালোবাসা যখন দূরদেশে

অবসান নয় বরং টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি সম্পর্ক গভীর করার রয়েছে উপায়।


কাজ বা পড়াশুনার খাতিরে এখন অনেকেই পাড়ি জমাচ্ছে ভিনদেশে। বিয়ে বা প্রেম- সম্পর্ক যেমনই হোক না কেনো ‘লং ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ’য়ের ক্ষেত্রে দুজনের পারস্পারিক বোঝাপড়া এবং ভালোবাসার প্রতি আস্থা রাখা জরুরি।


সম্পর্কবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভালোবাসার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুপক্ষেরই চেষ্টা এবং অবদান প্রয়োজন। একই ঘরে থেকেও অনেক সময় অনেক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, সেখানে দুজন দুই দেশ বা শহরে থাকলে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে তাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।


এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু দিক লক্ষ্য রাখা দরকার।


ঠিক করুন কীভাবে যোগাযোগ রাখবেন: যখন কেউ কাজ বা পড়াশুনার খাতিরে দেশের বাইরে যান তখন তারা ঠিক কতদিনে আবার দেশে ফিরতে পারবেন বা প্রিয়জনের কাছে যেতে পারবেন তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। হতে পারে ছয় মাস বা দুই বছর। তাই এই সময়টা কীভাবে পার করবেন এবং কীভাবে যোগাযোগ চলবে তা দুজনেরই ঠিক করে নিতে হবে।


সময় বুঝে যোগাযোগ করুন: দেশ আলাদা হওয়া মানে সময়েরও বড় পার্থক্য তৈরি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা হয় রাত দিনের তফাৎ। এমন পরিস্থিতিতে দুজনের সময় মিলিয়ে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ঠিক করে নিতে হবে। এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার বিষয়টিও নিয়মমাফিক একটি কাজের মধ্যে চলে আসে। কারণ এক দেশ বা শহরে থাকার সময় চাইলেই একে অপরকে ফোন দিতে পারতেন বা দেখা করতে চলে যেতেন, যা দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে আর সম্ভব হয় না। তাই এমন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে বেছে নিতে হবে যোগাযোগের মাধ্যম ও সময়।


এক্ষেত্রে দুজনেরই তৎপর হতে হবে। নয়তো ‘চোখের আড়াল মনের আড়াল’ এমন পরিস্থিতি তৈরি হতেও বেশি দেরি হবে না।


যদি দুজনের দেশের সময় একদমই বিপরীত হয় তাহলে যে কোনো একজনকে ছাড় দিতেই হবে। তার কষ্ঠ হলেও রাত জেগে কথা বলতে হবে বা খুব ভোরে উঠতে হবে। এরকম প্রতিটি ছোট ছোট বিষয়ই সম্পর্ক সুন্দরভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য জরুরি।


দেখা করা: দেশ আলাদা হলে একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া বেশ সময় এবং খরচ সাপেক্ষ। যা অনেক সময়ই হয়ে ওঠে না। তবে যদি সুযোগ পেয়েই যান তাহলে পুরোপুরি ব্যবহার করুন। নতুন দেশ দেখার পাশাপাশি ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে সময় কাটান প্রাণ ভরে। এটি সম্ভব না হলে প্রযুক্তির ব্যবহার করুন। নিয়মিত ভিডিও চ্যাট করুন। এই সময়গুলোতে কখনও নিজেদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে দেওয়া চলবে না।


আর যদি একই দেশে তবে ভিন্ন শহরে থাকেন তাহলে কিছুটা সময় বের করে একে অপরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ বের করে নিন। কারণ সম্পর্ক ধরে রাখতে এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


মাঝে মধ্যে বিরতি নিন: ‘লং ডিসটেন্স রিলেশনশিপ’য়ের এই বিভিন্ন দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা কখনও কখনও বোঝা মনে হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেদের সময় দিন। একদিন সব ধরনের রুটিন মাফিক কাজ থেকে ছুটি নিন। এক্ষেত্রে একজনের কাছে অন্যজনের গুরুত্ব আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।


বিশ্বাস ধরে রাখুন: সম্পর্কের ভিত্তি একজন আরেকজনের উপরের আস্থা এবং বিশ্বাস। আর দূরের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাসের গুরুত্ব আরও বেশি। একে অপরের উপর যেমন বিশ্বাস রাখতে হবে তেমনি ভালোবাসার মানুষটির বিশ্বাস ধরে রাখার জন্যও তৎপর হতে হবে। একে অপরের থেকে দূরে চলে যাওয়ার পর ভালোবাসার মানুষটির কথা বেমালুম ভুলে গেলে চলবে না।


সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুজনের চেষ্টা এবং ভালোবাসা সমান জরুরি। তাই দুজনেরই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এছাড়া নিজেদের উপর আস্থা হারালেও চলবে না।