ত্বকের উজ্জ্বলতায় মাস্ক

রূপচর্চা/বিউটি-টিপস March 21, 2017 1,811
ত্বকের উজ্জ্বলতায় মাস্ক

যে কোনো ধরণের ত্বকের জন্য মাস্ক খুবই জরুরি। এই মাস্ক ব্যবহারের ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। তাই আগে জানতে হবে নিজের ত্বকের ধরন।


আর সেই অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মাস্ক খুবই জরুরি। ঘরে বসে কীভাবে মাস্ক ব্যবহার করবেন পরামর্শ দিয়েছেন হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিন কেয়ার ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী


নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। আর নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। তবে প্রয়োজন সারা দিনের কাজের ফাঁকে একটু সময় বের করে নেয়া। আমাদের ঘরে-বাইরে কাজ সামলাতে সামলাতে নিজের জন্য একটুও সময় থাকে না।


তার পরও হাজার কাজের মাঝে নিজের জন্য সময় বের করা জরুরি। মাস্ক নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ত্বকের আর্দ্রতাও বজায় থাকে। এতেকরে ত্বক টানটান ও সতেজ থাকে। এছাড়া বলিরেখাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বয়সের ছাপ দূর করে খুব সহজে মাস্ক।


কুলিং মাস্ক : কুলিং মাস্ক সাধারণত তৈলাক্ত ত্বকের জন্য প্রযোজ্য। কারণ তৈলাক্ত ত্বকে বেশি ময়লা আটকায়। যার ফলে এ ধরনের ত্বকে ব্রণ, র‌্যাশ ইত্যাদি সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। তাই ত্বক সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।


* পুদিনা পাতা এক মুঠো, তুলসীপাতা সমপরিমাণে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এর সঙ্গে হাফ চা চামচ কর্পূর মিশিয়ে নিন। এবার এই মাস্ক ১৫ থেকে ২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর টোনার করতে হবে।


* টোনার : এই মাস্ক ব্যবহার করার পর ভালো করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এপর টোনার ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।


* এককাপ নিমপাতা, দ্বিগুণ পরিমাণ পানি এবং এর সঙ্গে এক টুকরা দারুচিনি নিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। সবুজ রং হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।


এরপর ঠাণ্ডা করে আইস কিউব করে নিন। যখন মুখে জ্বালাভাব, র‌্যাশ ও ব্রণ দেখা দিবে তখন এই আইস কিউব বের করে আস্তে আস্তে ত্বকে লাগাতে হবে। এতে জ্বালাভাব কমে যাবে। ব্রণও কমে আসবে সেই সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পাবে।


২. গ্লোয়িং মাস্ক : সব ধরনের ত্বকের জন্য উপকারী মাস্ক হল গ্লোয়িং মাস্ক


* এক টেবিল চামচ মুগডালের গুঁড়া, হাফ চা চামচ, তুলসীপাতা পেস্ট, হাফ চা চামচ পুদিনা পাতা পেস্ট, হাফ চা চামচ লেবুর রস এবং এক টেবিল চা চামচ ফেটানো ডিম নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ১৫/২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এবার টোনার লাগাতে হবে।


টোনার : এক কাপ গোলাপের পাপড়ি, দ্বিগুণ পরিমাণের পানি এবং দুই/তিনটি এলাচের গুঁড়া নিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা করে আইস কিউব করুন। আবার ঠাণ্ডা করে বোতলে নরমালে ফ্রিজে রাখতে পারেন।


মাস্ক লাগানোর পর এই টোনার ব্যবহারের ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।


* ক্লিয়ার মাস্ক : এক টেবিল চামচ মুলতানি মাটি, হাফ টেবিল চামচ লেমন/খোসার পেস্ট, দুই চা চামচ কাঁচাদুধ, হাফ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে স্কিনের মরাকোষ দূর হবে। মুখ পরিষ্কার হবে।


টোনার : এক কাপ ফুটন্ত গরম পানিতে লেবুর খোসা কেটে নিয়ে ২০ মিনিট জ্বাল করে নিতে হবে। নামানোর আগে এক কাপ শসার রস ও এক কাপ আলুর রস মিশিয়ে নিন। এরপর নামিয়ে ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে আইস কিউব করুন। মাস্ক লাগানোর পর টোনার ব্যবহার করলে ত্বকে উজ্জ্বলতা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাবে। যাদের লোমকূপ বড় তাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। কারণ টোনার ব্যবহারের ফলে লোমকূপ ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসবে।