সম্পর্ককে দৃঢ় করতে ৬ জন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

লাইফ স্টাইল 24th Dec 16 at 3:03pm 397
Googleplus Pint
সম্পর্ককে দৃঢ় করতে ৬ জন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
ভালোবাসার সম্পর্ক কি চির তরুণ, চির সবুজ? সময় যতই যাক না কেন কখনো হয় না মলিন, এমন কি? না। সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কের ধরণ বদলায়। তাই এক সময়ের সুখী যুগলকে আমরা অভিযোগ করতে শুনি, তাদের সেই সোনালী দিন আর নেই। কিন্তু এ দায় শুধু সময়ের নয়। এই দায় সেই যুগলেরও। ভালোবাসার সম্পর্ক দাবি করে যত্ন, বিশেষ মনোযোগের। নাহলে এক সময় একঘেয়ে হতে শুরু করে সব কিছু।

জেন সাইকোথেরাপিস্ট এবং নিউরোমার্কেটিং কৌশলী মিশেল পাইভা বলেন, "আমার মা, যিনি আমার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেনটর, তিনি বলতেন, 'স্মার্ট মানুষেরা কখনো একঘেয়ে হয়ে যান না, তারা বরং উৎসাহী হন।'

তাই ভালোবাসার সম্পর্কটিকে নিয়ে ভাবুন। খুঁজে বের করুন কোন বিষয়টি আপনাদেরকে উজ্জীবিত রাখে। সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই সমাধান রাখুন হাতের কাছে। নতুন সম্পর্কে আপনি হয়ত ভাবলেন, এখন তো মাত্র শুরু, সবই ঠিক আছে। আপনি জানেন না, অপরপক্ষ কখন বঞ্চিত অনুভব করতে শুরু করবে। তাই অভিযোগের সুযোগ না দিয়ে নিজেই যত্নশীল হোন। সম্পর্ককে করুন এতটাই শক্তিশালী যেন যে কোন প্রতিকূলতা একসাথে হাতে হাত ধরে মোকাবিলা করতে পারেন। এজন্য খেয়াল রাখুন এই বিষয়গুলো...

একঘেয়েমিতা
একঘেয়েমিতা এবং জটিলতা যেন একই পথের পথিক। একবার সম্পর্কে এদের ছায়া পড়লে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বলয় তৈরি হয়। তাই সচেতন হোন। 'একসাথে কোন কিছু করুন'- বলেন লাইফ কোচ কালি রগার্স। তিনি আরও বলেন, মানুষের যেমন চাকরিক্ষেত্রে প্রমোশন এবং প্রশংসা প্রয়োজন হয় তেমনি যুগলেরও প্রয়োজন হয় নতুন কিছু'। তাই মজার কাজ খুঁজুন। আপনার সঙ্গীর আগ্রহের দিকে নজর দিন। নিজের আগ্রহ তাকে জানান। নতুন কিছু করুন, সময়কে উপভোগ করুন।

যোগাযোগ রাখুন নিরবচ্ছিন্ন
আপনার সঙ্গীর খোঁজখবর রাখুন। এরমানে এই নয় যে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন। আন্তরিকতার সাথে তার খোঁজ নিন। তার কথা শুনুন। যে সকল যুগল পরস্পরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন তাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হয় কম। 'আপনি যদি না শোনেন তাহলে সঙ্গীর দৃষ্টিভঙ্গি কখনো বুঝতে পারবেন না। তখন হয়ত না বুঝেই একটা মতামত দেবেন, আর এভাবেই শুরু হবে তিক্ততা'- বলেন নিউ ইয়র্কের কাপল থেরাপিস্ট জেনেট জিন।

প্রেক্ষিত খেয়াল করুন
আপনি হয়ত ভাবছেন, প্রিয় মানুষটিকে আপনার মনের অবস্থা সরাসরি বলাই ভাল। ঠিক হলে ঠিক বলবেন, ভুল হলে ভুল! সবসময় এর ফল ভাল নাও হতে পারে। কথা বলার আগে অবশ্যই প্রেক্ষিত বিচার করুন। তার মনের অবস্থা বুঝে আপনার কথা বলুন। সত্যিটাই বলুন, কিন্তু নমনীয় ভাবে, আঘাত না করে।

মনোযোগ দিন
সারাদিনে আমরা কত কাজ করি। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া অব্দি প্রতিটি কাজই তার সাথে আপনার যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করে। প্রতিটি যুগলই পরস্পরের কাছ থেকে মনোযোগ দাবি করে। আপনি যে তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তা তাকে বুঝতে দিন। মানুষ নিজে নিজে সব বুঝে নিতে পারে না। তাই আপনিই জানান, আদায় করে নিন যতটা মনোযোগ আপনার চাই।

স্বাধীনচেতা হোন
আপনি কি জানেন, অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর? নিজস্ব শখের চর্চা করুন। স্বকীয়তা বজায় রাখুন। এটি আপনার সঙ্গীর মাঝে আপনার প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি করবে। 'নিজের জন্য সময় চাওয়া স্বার্থপরতা মনে হতে পারে, যেহেতু আমরা ঐ সময়টায় আমাদের সঙ্গীকে এড়িয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা হল, এই সময়টুকুতে আমরা আমাদের মনকে পুনরায় উজ্জীবিত করি এবং সঙ্গী ও সম্পর্ককে আরও বেশী দিতে তৈরি হই'- বলেন নিউ ইয়র্কের ক্লিনিকাল হিপনোথেরাপিস্ট, লেখক এবং শিক্ষক র‍্যাচেল এস্টেট।

পরিবারকে সময় দিন
সময়ের চেয়ে সুন্দর উপহার আর নেই। সঙ্গীকে তো সময় দেবেনই, তাকে সঙ্গে নিয়ে সময় দিন পরিবার আর বন্ধুবান্ধবদেরও। সম্পর্ক ব্যক্তিগত নয়, সম্পর্ক সামাজিক। এর সামাজিক চর্চা সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে। এনভিশন ওয়েলনেস থেকে মনোবিজ্ঞানী এরিকা মার্টিনেজ বলেন, 'এটি একটি সামাজিক বিষয়, একটি লৈঙ্গিক দায়িত্ব যা সমাজ আমাদের জন্য চিরস্থায়ী করেছে'। আপনার সামাজিক মূল্যায়ণ, সামাজিকভাবে সঙ্গীকে মূল্যায়ণ করা আপনার একটি দৃঢ় ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে যা জরুরি।

সময়কে অর্থবহ করুন
একসাথে সময় কাটানো মানে কী? আপনি হয়ত ছুটির দিনে একসাথে সারাদিন বাসায় রইলেন। আপনার সঙ্গী তার মত কাজ করলেন, আপনি আপনার মত। একসাথে একটা টিভি প্রোগ্রাম দেখলেন, রাতের খাবার খেলেন। এই সময় কাটানো যদি একঘেয়ে পর্যায়ে চলে যায় তাহলে এক সময় আপনি বা আপনার সঙ্গী অন্য কোথাও নিজের আনন্দ খুঁজে নেবেন। তাই সময় শুধু কাটানো নয়, করুন এমন কিছু যাতে সময়টা বার বার ফিরিয়ে আনার আগ্রহ থাকে দু'জনের মাঝেই।

প্রশংসা করুন
পরস্পরের প্রশংসা করুন সবসময়। নেতিবাচক বিষয়ে কম কথা বলে ইতিবাচক বিষয় নিয়ে বেশী কথা বলুন। 'যে যুগল ফ্লার্ট করা ছেড়ে দেয় বুঝতে হবে তারা প্রত্যাশা করাও ছেড়ে দিচ্ছেন' বলেন সার্টিফাইড রিলেশনশিপ কোচ ক্রাইস আর্মস্ট্রং। তাই ভালোবাসা প্রকাশ করুন। দুষ্টু মিষ্টি হাসি ঠাট্টা করু
Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 8 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)