জেনে নিন সুখের ৩ মৌলিক মন্ত্র

লাইফ স্টাইল 14th Dec 16 at 5:38pm 869
Googleplus Pint
জেনে নিন সুখের ৩ মৌলিক মন্ত্র
জীবনের অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো সুখ। আবার এর সন্ধান সবচেয়ে কঠিন বিষয় হতে পারে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি অব অ্যাডাল্ট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মনোবিজ্ঞানী রবার্ট ওয়ালডিংগার প্রাপ্তবয়স্কদের জীবনের সুখ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছে সুখের ৩টি মৌলিক মন্ত্রের কথা।

১৯৩৮ সাল থেকে এক দল মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার নানা তথ্য সংগ্রহ করেন রবার্ট। টানা ৭৫ বছরের নানা সংশ্লিষ্ট গবেষণা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। বিভিন্ন গবেষকরা মানুষের জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন। বিয়ে, জীবনযাপনের গুণগত মান, কর্মজীবনের তৃপ্তি বা সামাজিক কার্যক্রম ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা চালান। সব শেষে তারা সুখের ৩টি মৌলিক মন্ত্রের সন্ধান পেয়েছেন। এগুলো জেনে নিন।

১. বন্ধুত্ব: যেকোনো বন্ধু হলে চলবে না। কাছের বন্ধুত্ব সুখের অন্যতম শর্ত। যে দলের ওপর গবেষণা করা হয়, দেখা গেছে, যারা পরিবার, সমাজ এবং বন্ধুদের যত বেশি কাছে ছিলেন তারা তত বেশি সুখী। আর যাদের অন্যদের সঙ্গে সখ্যতা কম তাদের সুখের মাত্রাও তত কম ছিল। ২০১৪ সালের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, সোশাল অ্যান্ড পারসোনালিটি সাইকোলজি কম্পাস জার্নালে প্রকাশিত অনেকগুলো গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, কাছের বন্ধুত্ব মস্তিষ্কের কার্যক্রম, ঘুম এবং ভালো থাকার যাবতীয় প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুতা প্রদান করে।

২. সম্পর্কের গুণগত মান: আপনার কতো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তা কোনো বিষয় নয়। সম্পর্কের গুণগত মানের ওপর সুখ নির্ভর করে। দম্পতিরা যখন সামান্য বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি করেন তখন একে বিরোধপূর্ণ বিবাহিত জীবন বলে ধরে নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে একের প্রতি অন্যের অন্তরঙ্গতা কম থাকে। যারা বিয়ের পর সুখী নন, তাদের বিয়েটা আদৌ বিয়ে নয়। এখন গুণগত সম্পর্ক সব বয়সে গড়ে ওঠে না। ২০১৫ সালে সাইকোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়, বিভিন্ন বয়সে সম্পর্ক হলেও তা গুণসম্পন্ন হয় না। তবে ৩০ বছর বয়সে গুণগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে মানুষে। তখন এ সংক্রান্ত সুখের সন্ধান মেলে।

৩. পাস্পরিক সমঝোতার বিয়ে: দাম্পত্য সম্পর্কে দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই জরুরি। যাদের বিয়ের আগে ডিভোর্স বা অন্যান্য বাজে সমস্যা থাকে না, তাদের নতুন জীবন নিয়ে এক ধরনের সুখকর অনভূতি কাজ করে। আবার বিয়েটা পছন্দের হলে আরো ভালো। স্বামী-স্ত্রী যখন একে অপরের প্রতি আস্থাশীল হয়ে ওঠেন, তখন সুখ স্থায়িত্ব পেতে থাকে। ২০১৩ সালে বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল ‘পিএলওএস ওয়ান’-এ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, জুটিবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বিষয়গুলো বিবাহিত জীবনের সমস্যার ঝুঁকি কমায়। তা ছাড়া সম্পর্ক সুস্থ দেহ-মনের জন্যেও জরুরি।
Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 27 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)