পৃথিবী কাঁপানো ভূমিকম্পেরা! (পর্ব- ২)

জানা অজানা June 19, 2016 746
পৃথিবী কাঁপানো ভূমিকম্পেরা! (পর্ব- ২)

আজকাল মাটিটা সামান্য একটু কেঁপে উঠলেই আমরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। ঘর-বাড়ি থেকে রাস্তায় নেমে পড়ি দলে দলে। অবশ্য ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে আমাদের। মাঝে মাঝেই এত ভয়ংকর ভয়ংকর সব ভূমিকম্পের ফলাফল দেখতে পাই আমরা, আর আমাদের ঘর-বাড়িগুলো সেই ছোটখাটো ভূমিকম্পের কাছে এতটাই পলকা যে সামান্য একটু মাটির দুলুনীতে ভয়ে শিউরে ওঠা ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কিছু ভূমিকম্প রয়েছে যেগুলোর কথা শুনলে আপনার মনে হবে সেগুলোর কাছে বর্তমানের এই ভূমিকম্পগুলো তো নেহায়েত দুগ্ধপোষ্য শিশু! একটা ভূমিকম্প ঠিক কতটা বড় আকারে হতে পারে? মানুষের ভাবনার গন্ডী পেরিয়ে পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেওয়া এমনই কিছু সর্ববৃহৎ ভূমিকম্পের কথা বলা হল আজকে।


৪. সেনদাইয়ের ভূমিকম্প ( ৯.০ মাত্রা )

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, এই ২০১১ সালেই হঠাৎ করে জাপানে হয়ে যায় বেশ বড়সড় একটি ভূমিকম্প। এমনতে জাপান ভূমিকম্পের দেশ। আর তাই মাঝে মাঝেই ছোটখাটো কিছু ভূমিকম্প এখানে হয়েই থাকে। কিন্তু ছোট-খাটো কিছু নয়, রিখটার স্কেলে একেবারে ৯.০ মাত্রায় চলে যায় এই ভূমিকম্পটির কম্পনমাত্রা। কয়েক হাজার মানুষ মারা যায় এই ভূমিকম্পে। তবে কেবল ভূমিকম্প একা নয়, একইসাথে সুনামিও এসেছিল এসময় সেনদাইএ। দুটোর মিশেলে একেবারে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে পুরো জাপান।


৫. রাশিয়ার ভূমিকম্প ( ৯.০ মাত্রা )

রাশিয়ার কামস্কাটকে একই মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয় বহু বছর আগে। সেই ১৯৫২ সালে। ভূমিকম্পের ফলে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয় হাওয়াই দ্বীপের। সেই সাথে ধ্বংস হয় প্রায় ১,০০০,০০০ ডলারের সম্পত্তিও। সেসময় সমুদ্রের ঢেউ ৯ কিলোমিটার অব্দি উচ্চতা পেয়েছিল বলে জানায় বিশেষজ্ঞরা। বেশকিছু পশু-পাখি মারা গেলেও মানুষ মারা যাওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি এ ভূমিকম্পে।


৬. সেনজির ভূমিকম্প ( ৮ মাত্রা )

বর্তমানে সানজি বলে পরিচিত চীনের এই অঞ্চলটি প্রচন্ড ভূমিকম্পের তোড়ে লন্ড-ভন্ড হয়ে যায় ১৫৫৬ সালের ২৩ জানুয়ারিতে। তখন এটি পরিচিত ছিল সানজি নামে। সেবার প্রায় ৮৩০,০০০ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় এই ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি। সেইসাথে ভেঙে পড়ে পুরো রাজ্যটির কাঠামো। ঘর-বাড়ি ভেঙে যায়। পানির তোড়ে ভূমিধ্বস হয়। তবে এতসব কিছু ছাড়াও সবচাইতে ভয়াবহভাবে এই রাজ্যের বেশিরভাগ শহরের দেয়াল পুরোপুরি ধ্বসিয়ে দেয় ভূমিকম্পটি।


৭. ইকুয়েডরের ভূমিকম্প ( ৮.৮ মাত্রা )

এটাও বেশ আগের কথা। ১৯০৬ সালের ৩১শে জানুয়ারি সংঘটিত হয় এই ভূমিকম্পটি। প্রচন্ড ভূমিকম্পের ফলে তৈরি হয় সুনামি। যার জন্যে প্রাণে মারা যান প্রায় ৫০০ থেকে ১,৫০০ জন মানুষ। তবে কেবল এটুকুতেই নয়, সুনামিটি ইকুয়েডর ছাড়াও সেসময় আঘাত হানে কলোম্বিয়া, স্যান ফ্রান্সিসকো, হাওয়াই, জাপানসহ আরো বেশ কিছু অঞ্চলকে।